গাড়িতে আগুন লাগলে কী করবেন
লেখক Fire Safety BD · সর্বশেষ আপডেট
প্রথম ষাট সেকেন্ড: থামুন, ইঞ্জিন বন্ধ করুন, সবাইকে বের করে দূরে সরান — এবং কখন এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করা নিরাপদ।
গাড়ির আগুন খুব দ্রুত বাড়ে, আর পোড়া প্লাস্টিক ও জ্বালানির ধোঁয়া বিষাক্ত। গাড়ি আবার কেনা যায়। প্রথম মিনিটে আপনি কোন কাজটি কোনটির পরে করছেন, সেটিই আসল।
প্রথম মিনিট
- নিরাপদ হওয়া মাত্র সংকেত দিয়ে গাড়ি পাশে থামান — সম্ভব হলে ভবন, অন্য যানবাহন ও ফিলিং স্টেশন থেকে দূরে।
- ইঞ্জিন বন্ধ করুন এবং হ্যান্ডব্রেক টানুন।
- সবাইকে বের করুন। ব্যাগ ও জিনিসপত্র ফেলে রাখুন।
- বেশ দূরে সরে যান — রাস্তার বাইরে, ধোঁয়ার উল্টো দিকে যেদিক থেকে বাতাস আসছে — এবং অন্যদেরও দূরে রাখুন।
- ৯৯৯-এ ফোন করুন এবং সড়ক, কোন দিকে যাচ্ছিলেন ও কাছের পরিচিত স্থানের নাম বলুন।
এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করবেন কি?
শুধু নিচের সবগুলো শর্ত পূরণ হলে:
- সবাই বের হয়ে গেছে এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়েছে;
- আগুন ছোট — যেমন ইঞ্জিন বে-র কিনারায় সামান্য ধোঁয়া বা শিখা;
- আপনি আগুন ও আপনার সরে যাওয়ার পথের মাঝে থাকতে পারছেন, বাতাস আপনার পেছন দিক থেকে আসছে।
শিখার গোড়ায় তাক করুন এবং এপাশ-ওপাশ ঘোরান। একটি এক্সটিংগুইশারে না নিভলে সরে যান।
যা করবেন না
- বনেট পুরোটা খুলবেন না।
- ফোন, ব্যাগ বা কাগজপত্র আনতে ফিরে যাবেন না।
- গাড়ির সামনে বা পেছনে, কিংবা জ্বলন্ত টায়ারের কাছে দাঁড়াবেন না — টায়ার ফেটে যেতে পারে।
- আগুন জ্বালানি ট্যাংক অথবা সিএনজি বা এলপিজি সিলিন্ডারে পৌঁছে গেলে নেভানোর চেষ্টা করবেন না — এলাকা ফাঁকা করে ফায়ার সার্ভিসের অপেক্ষা করুন।
ঝুঁকি কমাতে
- বৈদ্যুতিক ত্রুটি, বারবার ফিউজ কেটে যাওয়া ও জ্বালানির গন্ধ দ্রুত মেরামত করান।
- সিএনজি বা এলপিজি কনভার্সন ও সিলিন্ডার অনুমোদিত ওয়ার্কশপে বসান ও পরীক্ষা করান, এবং পুনঃপরীক্ষা সময়মতো করান।
- কেবিনে আলগা জ্বালানির পাত্র বহন করবেন না।
- চালকের সিটের কাছে ব্র্যাকেটে একটি এক্সটিংগুইশার রাখুন এবং নিয়মিত গেজ দেখুন।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
ইঞ্জিন থেকে ধোঁয়া বের হলে কি বনেট খোলা উচিত?
পুরোটা খুলে ফেলবেন না। হঠাৎ বাতাস ঢুকে ধিকিধিকি আগুন আপনার মুখের সামনেই দাউ দাউ করে জ্বলে উঠতে পারে। এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করলে শুধু বনেটের ক্যাচ ছাড়িয়ে ফাঁক দিয়ে স্প্রে করুন।
গাড়িতে আগুন লাগার আগে কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
রাবার বা প্লাস্টিক পোড়ার গন্ধ, বনেট বা ড্যাশবোর্ডের নিচ থেকে ধোঁয়া, বারবার ফিউজ কেটে যাওয়া, জ্বালানি বা গ্যাসের গন্ধ, এবং টেম্পারেচার গেজ দ্রুত বেড়ে যাওয়া। প্রথম লক্ষণেই থেমে পরীক্ষা করুন।